• ঢাকা
  • মঙ্গলবার , ২৭ ফেব্রুয়ারী , ২০২৪
Logo

গ্রীষ্মকাল। মাঝেমধ্যে বিরতি দিয়ে বাতাস বয়। বাড়ির দক্ষিণ দিকে ছিল ধানখেত। একটু দূরেই কীর্তনখোলা নদী

Admin প্রকাশিত: মঙ্গলবার , ৩ জানুয়ারী , ২০২৩

শেয়ার করুনঃ
গ্রীষ্মকাল। মাঝেমধ্যে বিরতি দিয়ে বাতাস বয়। বাড়ির দক্ষিণ দিকে ছিল ধানখেত। একটু দূরেই কীর্তনখোলা নদী

গ্রীষ্মকাল। মাঝেমধ্যে বিরতি দিয়ে বাতাস বয়। বাড়ির দক্ষিণ দিকে ছিল ধানখেত। একটু দূরেই কীর্তনখোলা নদী। গ্রামের বাড়ির দক্ষিণ দিকে বড় বড় মান্দারগাছের তলায় দূর্বাঘাসে বসে দখিনা বাতাসে শরীর জুড়াতাম। পাশেই একপ্রকার বুনো গুল্মের ফুল তুলে মধু খেতাম। আশপাশে সারা দিনই থাকত পাখিদের কলরব। শালিক, দোয়েল, ঘুঘু, টুনটুনি, ফটিকজল, ফিঙে, বাজ, বুলবুলি ও মাছরাঙা। মাঝেমধ্যে ঝোপঝাড়ের মধ্য দিয়ে নীল রঙের পাতি মাছরাঙা উড়ে যেত ডেকে ডেকে। এক পুকুর থেকে খাবারের সন্ধানে অন্য পুকুরে উড়ে যেত। গ্রামের প্রতিটি বাড়িতেই বড়-মাঝারি পুকুর ছিল। সেসব পুকুরের ঘাটের কাছাকাছি খাড়া পাড়ে গর্ত করে প্রতিবছর বাসা বানাত দুই প্রজাতির মাছরাঙা—পাতি ও ধলাবুক মাছরাঙা। পুকুরে ফেলা বা পুঁতে রাখা কোনো গাছের ডালে বসে থাকত। এদের প্রধান খাবার ছিল চেলা ও পুঁটি মাছ।

দুই প্রজাতির মাছরাঙা প্রতিবছর গর্ত করে বাসা বানাত। গর্ত করত পুকুরের খাড়া পাড়ের অংশে। পুরুষ ও স্ত্রী পাখি পালা করেই ডিমে তা দিত। দুপুরের রোদে মাছরাঙাদের পালকের আকর্ষণীয় রং এবং মাছ ধরার কৌশল ভালো লাগত। মাছরাঙা পাখি গ্রামের মানুষ শিকার করত না। যে কারণে তাদের সংখ্যা ভালোই ছিল। প্রতিটি বাড়ির পুকুরে থাকত দুই থেকে চার জোড়া মাছরাঙা। নিজেদের মতো করে এরা বিচরণ এলাকা ঠিক করত। কোনো দিন দুই প্রজাতির মধ্যে সংঘাত দেখিনি।

মাছরাঙা বাংলার অতি জনপ্রিয় পাখি। বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জে জলার কাছে, পুকুরে, উপকূলে, বনে প্রায় ১১ প্রজাতির মাছরাঙা দেখা যায়। ছেলেবেলায় বরিশালে কেবল ওপরের বর্ণিত দুই প্রজাতির মাছরাঙাই দেখেছি। পাখি ও পরিবেশ গবেষণার কাজে দেশের অনেক জেলায় গিয়ে আরও ৯ প্রজাতির মাছরাঙার দেখা পাই।

বরিশালের শহর ও গাঁয়ে দেখা যায় পাতি মাছরাঙা, ধলাবুক মাছরাঙা, নীলকান মাছরাঙা ও মেঘহও মাছরাঙা। প্রজাতিভেদে এদের বর্ণ বৈচিত্র্যময়। নীলকান মাছরাঙা বরিশাল শহরবর্তী গ্রামে দেখা যায়। বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চারদিকে নদীবেষ্টিত নলুয়া গ্রামে গিয়ে এদের প্রথম দেখি। নীলকান মাছরাঙা তীব্র কণ্ঠে চিঁ চিঁ সুরে ডাকে। ডাকের ধরন শুনে কেবল এদের পাতি মাছরাঙা থেকে আলাদা করা যায়। খয়রা, কালোটুপি ও লাল মাছরাঙার সঙ্গে দেখা হয় সুন্দরবনে। সুন্দরবনের খালগুলোই এদের প্রধান আবাস। ভাটার সময় এরা মাছ ও কাঁকড়া ধরে খায়। ফকির লালন সাঁইয়ের তীর্থভূমি কুষ্টিয়া জেলার বুক ছুঁয়ে বয়ে চলেছে গড়াই নদ। পাকড়া মাছরাঙা গড়াই নদের তীরের গ্রামে নিয়মিত দেখা যায়। মিঠাপানির নদী পাকড়া মাছরাঙার অতি প্রিয় আবাস। উদয়ী বামনরাঙা গ্রীষ্মকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের চিরসবুজ বনের ছড়ার আশপাশে বসবাস করে। ছড়া থেকে মাছ ধরে খায়। কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানের রাম পাহাড়ের ছড়ায় উদয়ী বামনরাঙা দেখা যায়। ধলাঘাড় ও মেঘহও মাছরাঙা বসবাস করে প্রধানত উপকূলীয় এলাকায়। সমুদ্র ও নোনাজলের নদীর কাছেই তাদের বেশি দেখা যায়।

Admin
শেয়ার করুনঃ

এই বিভাগের আরোও খবর

  • এ হাটে আলুর দাম ভালো। আর গ্রাম থেকে একদম কাছে এ হাট বসায় আলু আনা–নেওয়ার পরিবহন খরচও নেই। তাই কৃষকের লাভ থাকছে।
    এ হাটে আলুর দাম ভালো। আর গ্রাম থেকে একদম কাছে এ হাট বসায় আলু আনা–নেওয়ার পরিবহন খরচও নেই। তাই কৃষকের লাভ থাকছে।
  • একদিনে আরও ৪৭ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে
    একদিনে আরও ৪৭ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে
  • সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ডা. এনায়েত হোসেন
    সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ডা. এনায়েত হোসেন
  • পেটের ডান দিকে ব্যথা যেসব বিপদের কারণ হতে পারে
    পেটের ডান দিকে ব্যথা যেসব বিপদের কারণ হতে পারে
  • বেসরকারি হাসপাতালে গেলেই গর্ভবতী নারীকে সিজার করে দেওয়া হয়
    বেসরকারি হাসপাতালে গেলেই গর্ভবতী নারীকে সিজার করে দেওয়া হয়
  • রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে যা করবেন
    রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে যা করবেন
  • ইতালিতে এসএসসি ও এইচএসসি প্রোগ্রামে বাংলাদেশিদের জন্য ভর্তির সুযোগ
    ইতালিতে এসএসসি ও এইচএসসি প্রোগ্রামে বাংলাদেশিদের জন্য ভর্তির সুযোগ
  • বাহারি পিঠা নিয়ে দক্ষিণ সিটির উৎসব
    বাহারি পিঠা নিয়ে দক্ষিণ সিটির উৎসব
  • আধুনিক চাষাবাদে জাকিরের সাফল্য
    আধুনিক চাষাবাদে জাকিরের সাফল্য
Logo